ইসলাম প্রতিটি যুগে প্রয়োজনীয় লোক এবং ইসলামী পুনর্জাগরণে যথার্থ ভূমিকা গ্রহণ করার মতো উদ্যোগী পুরুষ সৃষ্টি করেছে। যখনই মুসলিম সমাজ-জীবন পৃথিবীর অপরাপর ধর্ম বা সংস্কৃতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে, খোদাপ্রদত্ত বিধানে যখনই বুদ্ধিবৃত্তিক উপাদানের (বিদআতের) মিশ্রণ ঘটেছে, মুসলমানগণ যখনই ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে জাহিলিয়াতের দিকে ধাবিত হয়েছে, তখনই ইসলামের সূর্যসন্তানগণ ভুল প্রবণতার সংস্কার এবং অশান্তি ও বিপর্যয় উৎখাত করেছেন, মানবতার উত্তরণ ঘটিয়ে মানবসমাজকে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতির ডোরে আবদ্ধ করেছেন এবং ইসলামকে সময়োচিত হিফাযত ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য খিদমত আনজাম দিয়েছেন। ‘সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস’ মূলত সেসব মর্দে মুমিন ও মর্দে মুজাহিদের জীবনালেখ্য ও ইসলামের ১৩০০ বছরের ‘ইসলাহ’ ও ‘ইনকিলাবে’র ইতিহাস। ৭ খণ্ডে প্রকাশিত সিরিজ গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত আলোচনা-সূচি নিম্নে প্রদত্ত হলো : ১ম খণ্ড : হিজরি প্রথম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ওমর ইবনে আবদুল আযিয রহ. থেকে অষ্টম শতাব্দীর মুজাদ্দিদ জালালুদ্দীন রুমী রহ. পর্যন্ত ১১ জন মর্দে মুমিনের সাধনা ও কর্মবহুল জীবন এবং ইসলামী সংস্কার আন্দোলনের ইতিহাসের রোয়েদাদ এই খণ্ডে এসে গেছে। ২য় খণ্ড : মুসলিম উম্মাহর ব্যাপক আলোচিত ব্যক্তিত্ব শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহ.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য এবং নবম হিজরি শতাব্দীতে তাতারীদের ধংসযজ্ঞের ইতিহাস এই পর্বে স্থান পেয়েছে। ৩য় খণ্ড : বর্তমান পর্বে সুলতানুল মাশায়েখ খাজা নিযামুদ্দীন রহ. ও মাখদুমুল মুলক শায়েখ শরফুদ্দীন ইয়াহইয়া মুনায়রী রহ.-এর সাধনাবহুল আধ্যাত্মিক জীবন ও দশম হিজরি শতাব্দীর ইতিহাস আলোচিত হয়েছে। ৪র্থ খণ্ড : গ্রন্থের এ পর্যায়ে ইসলামী রেনেসাঁর অগ্নিপুরুষ দ্বিতীয় সহস্রাব্দের সংস্কারক মুজাদ্দিদে আলফে সানি শায়েখ আহমদ ফারুকী সরহিন্দী রহ.-এর সংগ্রাম ও সাধনাবহুল অমর জীবনেতিহাস বর্ণিত হয়েছে। ৫ম খণ্ড : এই খণ্ডে হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ ও মুজতাহিদ হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী রহ.-এর সংশোধন ও সংস্কারের ইতিহাস ও বিপ্লবী জীবনের বর্ণনা পেশ করা হয়েছে। ৬ষ্ঠ ও ৭ম খণ্ড : শেষ খণ্ডদ্বয়ে হিজরি ত্রয়োদশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ সাইয়েদ আহমদ শহীদ রহ.-এর সংগ্রাম-সাধনা এবং উপমহাদেশে মুসলমানদের উপর ইংরেজ, শিখ ও অমুসলিম রাজন্যবর্গের সম্মিলিত নির্যাতনের করুণ ইতিহাস উঠে এসেছে। ইসলামী ইতিহাসের একক বৈশিষ্ট্য হলো, এর পাঠক কাল্পনিক সুপারহিরোদের জগৎ থেকে বেড়িয়ে এমন কিছু আত্মত্যাগী, দুঃসাহসী এবং সামগ্রিক যোগ্যতার অধিকারী ব্যক্তিত্বের সাথে পরিচিত হন, যারা জীবনের চাহিদাকে ছাপিয়ে এবং সব রকম আশঙ্কাকে গুঁড়িয়ে জাহিলিয়াতে নিমজ্জিত সমাজকে বিনির্মাণ করেছেন। আলোচ্য গ্রন্থের পাঠকও এই ঐতিহাসিক সত্যকে দারুণভাবে উপলব্ধি করতে পারবে এবং জানতে পারবে, যুগে যুগে মুসলমানগণ কীভাবে দিগ্ভ্রান্ত মানবতাকে পথ দেখিয়েছে এবং জীবনপ্রবাহের স্রোতধারায় কীভাবে ইসলামী অনুশাসনমালা বিশ্বমানবের আদর্শ হয়ে থেকেছে।